উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ক্ষমতাবলে সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করে। দেশের সব বীমা প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পরিপালন করতে বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি বীমা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিদ্যমান আইন বিবেচনায় নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ বা শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদিত নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করতে হবে। এই নীতিমালা সব শাখা, এজেন্সি, ইউনিট, দাবি নিষ্পত্তি এজেন্ট ও কমিশন এজেন্টদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে বিএফআইইউর আধুনিক ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে এবং বেনামি বা ছদ্মনামের অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ইউনিট গঠন করতে হবে, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা (সিএএমএলসিও)। ব্যবসার আকার অনুযায়ী এ ইউনিটে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে। কমপ্লায়েন্স ইউনিটের বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধান নির্বাহীর পর্যবেক্ষণসহ পর্ষদে উপস্থাপনের পাশাপাশি প্রতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএফআইইউর কাছে পাঠাতে হবে।
উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে লেনদেনে অতিরিক্ত নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং বা মোবাইল আর্থিক সেবা চ্যানেল ছাড়া একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেনের তথ্য পরবর্তী মাসের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক বা উদ্দেশ্যহীন লেনদেন শনাক্ত হলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো পলিসি বন্ধ বা দাবি নিষ্পত্তির পর গ্রাহকের কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের রেকর্ড, অডিট রিপোর্ট এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সব ধরনের তথ্য ন্যূনতম পাঁচ বছরের জন্য নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে।