উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পটুয়ালীর দুমকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানালেও অন্য পক্ষ তা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। এদিকে কর্মঘণ্টায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানববন্ধনে অংশগ্রহণের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ‘দুমকি উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জি এম এনামুল হকের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে চিকিৎসক, নার্স, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠকর্মী, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকেরা অংশ নেন।
বদলি বহাল রাখার দাবিতে পাল্টা অবস্থান
মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয়দের একটি অংশ কর্মসূচির বিরোধিতা করে ডা. শাহীনের বদলি আদেশ বহাল রাখার দাবি জানায়। ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ ওয়াসিমের নেতৃত্বে প্রতিবাদকারীরা এ অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও বাগ্বিতণ্ডায় হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ডা. শাহীনের নেতৃত্বে হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাঁদের দাবি, এই সিন্ডিকেট হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
তবে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা কিংবা এর মাধ্যমে অনিয়ম সংঘটিত হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
কর্মঘণ্টায় মানববন্ধন, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বেশি থাকায় সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা পেতে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর মধ্যে একজন সরকারি কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মঘণ্টায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানববন্ধনে অংশগ্রহণ রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
তাঁদের দাবি, আরএমও ডা. জি এম এনামুল হকের নেতৃত্বে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও মানববন্ধনে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এতে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে বলে তাঁদের দাবি।
তবে কর্মসূচির কারণে ঠিক কতক্ষণ চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়েছে, কতজন রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কিংবা কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ ছিল কি না—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন
মানববন্ধনে স্থানীয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিবাদকারীরা।
তাঁদের বক্তব্য, একজন সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণের পেছনে কোনো বিশেষ স্বার্থ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের এ বিষয়ে বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
বদলি প্রত্যাহারের পক্ষে যা বলছেন মানববন্ধনকারীরা
অন্যদিকে, বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জি এম এনামুল হক, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ, কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কাজী ফাবিয়া জাহানসহ স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা ডা. মীর শহীদুল হাসান শাহীনকে মানবিক ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দুমকির সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর বদলির ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাঁরা সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার স্বার্থে বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এবং অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সামনে এলো প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের প্রশ্ন
একই সরকারি কর্মকর্তার বদলিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এক পক্ষ কর্মকর্তার বদলি প্রত্যাহারকে জনস্বার্থের দাবি হিসেবে তুলে ধরছে। অন্য পক্ষ বদলি আদেশ বহাল রাখা, অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
তবে হাসপাতালকেন্দ্রিক সিন্ডিকেট, অনিয়ম কিংবা কর্মঘণ্টায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বদলি নিয়ে বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।