উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা হিসেবে সই হওয়া জুলাই জাতীয় সনদের এক বছর পূর্ণ হলো আজ শনিবার। তবে সনদে থাকা বিভিন্ন মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ঘিরে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য এখন স্পষ্ট বিভাজনে রূপ নিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনুসরণ না করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আগামী জানুয়ারিতে এ সংক্রান্ত বিল সংসদে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১টি দল এই প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ৮৪টি প্রস্তাবসংবলিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তৈরি করে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর ২৪টি দল এতে সই করে এবং পরবর্তীতে আরও দুটি দল এতে স্বাক্ষর করে।
সনদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে দলগুলোর নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত রয়েছে। বিশেষ করে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন প্রশ্নে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির প্রস্তাবে বিএনপির আপত্তি রয়েছে। দলটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার এবং ভিন্নমতসহ সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে সনদটি অনুমোদন পায়। সেই আদেশের ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের কথা থাকলেও বিএনপি সে আদেশকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে শপথ নেয়নি। তবে জামায়াত ও এনসিপির সদস্যরা শপথ নেন এবং বর্তমানে তারা গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে অনড় রয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার দলিল নয়, গণভোটের মাধ্যমে এটি জনগণের সমর্থন পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সনদের বাস্তবায়ন রূপরেখা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা হয়েছিল এবং দলগুলো অঙ্গীকারনামায় সই করার পর এখন সরে আসলে তা অঙ্গীকারের ব্যত্যয় ঘটবে।