উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখল ও গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্টারলিং হিউম্যান হলার (লেগুনা) পরিবহনের মালিক ও সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা নিজেদের বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি ও স্ট্যান্ড দখলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ১২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক কালাম মিজি। এ সময় ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং-৯৭৪) সভাপতি ফারুক হোসেন, স্টারলিং পরিবহনের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিপ্লব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মালিক-শ্রমিক ও অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে কালাম মিজি বলেন, সম্প্রতি মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখল এবং গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন। তাঁর দাবি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘটনাকে উল্টো চাঁদাবাজি ও স্ট্যান্ড দখল হিসেবে প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
৫ অক্টোবরের ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৫ অক্টোবর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় একটি লেগুনা স্ট্যান্ডে কথিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন তাঁরা। এ সময় ইয়াকুব আলীসহ কয়েকজন বিএনপির নাম ব্যবহার করে টাকা আদায় করছিলেন বলে অভিযোগ করেন কালাম মিজি।
তাঁর দাবি, ওই সময় স্থানীয় লোকজনের হাতে ইয়াকুব আলী টাকা আদায়ের মানি রসিদসহ আটক হন এবং পরে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ইয়াকুব আলীর লেগুনার মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইয়াকুব আলীর বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতাও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
কালাম মিজি বলেন, ইয়াকুব আলীর সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, মহব্বত আলী, পাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও স্ট্যান্ড দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।
তিনি বলেন, কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা পরিবহন স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মিথ্যা অভিযোগ তুলে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা উচিত নয়।
গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তাঁরা অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজ, মানি রসিদ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন কালাম মিজি। দাবিগুলো হলো—গত ৫ অক্টোবরের ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, লেগুনা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই, ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং মিরপুরের লেগুনা মালিক-শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া পরিবহন স্ট্যান্ডগুলোকে অবৈধ অর্থ আদায় ও দখলদারিমুক্ত রাখার দাবি জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে কালাম মিজি বলেন, “আমরা চাঁদাবাজির পক্ষে নই, স্ট্যান্ড দখলের পক্ষে নই, কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও জোরজবরদস্তির পক্ষেও নই। কেউ চাঁদাবাজি করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলে কাউকে হয়রানি করা হলেও তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
পরিশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।
তাঁরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চান না উল্লেখ করে কালাম মিজি বলেন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। চাঁদাবাজি বন্ধ, মিথ্যা অভিযোগের অবসান এবং লেগুনা মালিক-শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।