উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা, নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মিরপুর থানা বিএনপির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম মিজী।
দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, দলে পদ-পদবি যত বড়ই হোক, অন্যায়-অপকর্ম করে কেউ পার পাবেন না। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডের দায় শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।
ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ
কালাম মিজী তার বক্তব্যে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলিকে নিয়ে মিরপুরের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন।
তার অভিযোগ, দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও মূল্যায়ন পাওয়ার পরও মিরপুর বিএনপির দুঃসময়ের, রাজপথের এবং বর্তমান কমিটিতে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, তুলি পদ-পদবিহীন ও সুবিধাবাদী কিছু ব্যক্তিকে ঘিরে চলাফেরা করতেন। এমনকি কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তির বিষয়ে তাকে আগে থেকেই সতর্ক করা হলেও তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।
‘সতর্ক করার পরও কেন উদাসীনতা?’
গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মিরপুরের ‘রাড্ডা নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে কালাম মিজী প্রশ্ন তোলেন—যাদের বিষয়ে আগে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?
তার ভাষায়, “সতর্কবার্তা শোনার পরও কেন উদাসীন থাকা হলো—মিরপুরের দুঃসময়ের রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশের সুযোগ থাকবে।
‘পদ নয়, কর্মকাণ্ডই শেষ কথা’
দলের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে কালাম মিজী বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তার দাবি, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান টিম লিডার ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে যারা দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাদের জন্য এসব ঘটনা সতর্কবার্তা।
“দলে আপনি বড় নেতা হন কিংবা ছোট কর্মী—সবাই দলের অংশ। কারও হক মেরে, কাউকে ঠকিয়ে কিংবা অসম্মান করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই,”—বলেন কালাম মিজী।
‘পাপের হিসাব একদিন দিতেই হয়’
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, অন্যায় ও অপকর্মের হিসাব একদিন না একদিন দিতে হয়।
তার বক্তব্য, “পাপ যখন পূর্ণতা পায়, তখন তার হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় দিতে হয়। আজ অনেকের ক্ষেত্রে সেটিই প্রমাণিত হয়েছে।”
তিনি অবশ্য বলেন, এসব পরিণতি তাদের কাম্য ছিল না; বরং দলীয় নেতাকর্মীদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংশোধন করাই প্রত্যাশিত।
‘২০ বছর আগের রাজনীতি আর আজকের রাজনীতি এক নয়’
দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের পুনরায় দলে ফেরার প্রত্যাশার বিষয়েও সতর্ক করেন কালাম মিজী।
তিনি বলেন, ২০ বছর আগের রাজনীতি এবং বর্তমান ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর রাজনীতি এক নয়। আতঙ্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের ‘আইকন’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার দিন শেষ হয়ে গেছে।
তার ভাষায়, “দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধ বা বিশৃঙ্খলা করে পরে আবার দলে ফিরে আসবেন—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বচ্ছতার রাজনীতির আহ্বান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে কালাম মিজী বলেন, দলকে দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্ব দিতে হলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, কোনো অপরাধী বা বিশৃঙ্খলাকারীকে প্রশ্রয় দিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে দলের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তৃণমূলের প্রতি আহ্বান
সবশেষে মিরপুরসহ দেশের বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কালাম মিজী বলেন, দল যে পদ-পদবি ও সম্মান দিয়েছে, তা রক্ষা করার দায়িত্বও নেতাকর্মীদের।
ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে যেন দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনি এই দলের নেতা—এখন সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি কীভাবে নিজের এবং দলের মান অক্ষুণ্ণ রেখে নিজেকে ও দলকে পরিচালনা করবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।”