উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবা এক নারীকে সরকারি সহায়তার চালের কার্ডসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব, যৌন হয়رানি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নারীকে নানাভাবে হয়রানি, তার এক ছেলেকে গাঁজার মামলায় হয়رানি এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. আসমা বেগম গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং বিকেলে বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ছোটহরিপুর এলাকার মৃত ফিরোজ মিয়ার স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী।
থানায় দেওয়া অভিযোগে আসমা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটে পড়ে সরকারি সহায়তার আশায় ইউপি সদস্য মো. আবুল কাসেমের কাছে গেলে তিনি চালের কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আবুল কাসেম ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ক্ষতিসাধনের হুমকি দিতে থাকেন এবং বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবুল কাসেম তার বসতঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং আসমা বেগম চিৎকার করলে তাকে হুমকি দিয়ে চলে যান। এছাড়া গত ১৯ সেপ্টেম্বর তার ছেলে শাকিলকে ফয়সাল নামের এক ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান এবং এরপর থেকে শাকিলকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান ও নারীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগও করেছেন আসমা বেগম। বাকশীমূল ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা দাবি করেন, আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে অতীতেও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মাদক মামলার সাক্ষী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের সুভাষ নামের এক দফাদারের কথা উল্লেখ করেন তারা। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সদস্য মো. আবুল কাসেমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল করিম জানান যে এ ধরনের অভিযোগ তাকে কেউ জানাননি এবং তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম জানতে পেরেছেন।
বুড়িচং থানা থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্তের জন্য এস আই জিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এস আই জিয়া জানিয়েছেন যে শুক্রবার তিনি কাগজ হাতে পেয়েছেন ও খুব শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। ভুক্তভোগী আসমা বেগম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংবাদটি তৈরি করেছেন ক্রাইম রিপোর্টার দেলোয়ার বি,এস সি।