উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় করা গেলে ছোটখাটো বিরোধ ও মামলা স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দেশের আদালতগুলোতে মামলাজট কমাতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন। আজ শনিবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয় এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক (উপসচিব) মাহমুদা সুলতানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন যে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। চুরি, মারামারি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নারীর শালীনতা অমর্যাদার মতো অপরাধ এবং পাওনা টাকা আদায়, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, ক্ষতিপূরণ ও বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মতো দেওয়ানি বিরোধ আইনের সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করা যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে, ফলে ছোটখাটো বিরোধের জন্যও মানুষকে দূরের আদালতে গিয়ে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। বর্তমানে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট আর্থিক দাবি বা ক্ষতিপূরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে আইন অনুযায়ী আদেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন যে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম, সাক্ষ্য, সিদ্ধান্ত ও রায় ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হলে ব্যবস্থাপনা সহজ হবে। দেশের বিভিন্ন আদালতে ছোটখাটো মামলার যে চাপ রয়েছে, গ্রাম আদালত কার্যকরভাবে কাজ করলে তার একটি অংশ স্থানীয় পর্যায়েই নিষ্পত্তি করা সম্ভব বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন। সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, সিলেটের উপপরিচালক মাহমুদা সুলতানা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করতে স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য যে গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬-এর আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে এবং ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে এর আর্থিক এখতিয়ারের সীমা তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।