উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের সব কাজ কেড়ে নিয়ে বেকারত্ব বাড়িয়ে দেবে—এমন আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের চিত্র পর্যালোচনা করে জানা যাচ্ছে, প্রযুক্তিটি যত চাকরি নষ্ট করছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করছে। আগস্টেও যুক্তরাষ্ট্রে অনুমানের চেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে এবং বেকারত্বের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.১ শতাংশে।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে এআইয়ের ধাক্কায় সেখানে প্রায় দুই লাখ মানুষ চাকরি হারালেও একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় দশ লাখ। অর্থাৎ ছাঁটাইয়ের চেয়ে নিয়োগ পাঁচ গুণ বেশি হয়েছে। এআই পরিচালনার জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী কুলিং সিস্টেম দরকার হওয়ায় ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান, কুলিং বিশেষজ্ঞ ও পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়েছে এবং তাঁদের বেতনও গড়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
আইনি সহকারী বা বাজার বিশ্লেষকদের চাকরি চলে যাওয়ার ধারণা থাকলেও বাস্তবে এআইয়ের কারণে কাজের গতি বাড়ায় খরচ কমেছে এবং সেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্যারালেগালদের নিয়োগ উল্টো ১১ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত দুই বছরে কাস্টমার সার্ভিসের কাজ ১০ শতাংশ এবং সাধারণ প্রশাসনিক বা সেক্রেটারিয়াল কাজ ১৫ শতাংশ কমেছে, কারণ এ ধরনের বাঁধাধরা কাজ এআই সফটওয়্যার খুব সহজেই করতে পারছে।
অতীতে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট আসার আগেও চাকরি হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, যা পরে কোটি কোটি নতুন কাজের জন্ম দিয়েছিল এবং এআইয়ের ক্ষেত্রেও একই রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। সংক্ষেপে বললে, এআই ঢালাওভাবে কর্মসংস্থান ধ্বংস করছে না বরং কাজের ধরন আমূল বদলে দিচ্ছে। লেখক সাব্বির আহমেদ, মোজো এডিটর-ইন-চিফ, লিখেছেন যে পুরোনো কিছু রুটিন কাজ হারিয়ে গেলেও সৃষ্টি হচ্ছে নতুন দক্ষতার অগণিত সুযোগ।