উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি সত্যি একদিন পৃথিবীর ৮৩০ কোটি মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে? এআই খাতের একদল গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ মনে করেন, আগামী এক দশকের মধ্যেই এ ধরনের অস্তিত্বগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। সম্প্রতি এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের সাবেক কর্মী ইভান হাবিবঙ্গার দাবি করেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি। তবে ঠিক কীভাবে একটি কম্পিউটারভিত্তিক সফটওয়্যার গোটা মানবজাতিকে ধ্বংস করবে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও ভিন্নমত রয়েছে।
এআই মানবজাতি নিশ্চিহ্ন করতে পারে কি না তা নিয়ে গবেষকদের একাংশের মতে, অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কোনো এআই মানুষকে প্রতারিত করে মহামারি সৃষ্টিকারী অতি-প্রাণঘাতী ভাইরাসের নকশা তৈরি বা ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, কেবল কোডিং দিয়ে ভাইরাস তৈরি হয় না এবং জিনগত ক্রম ও রাসায়নিকের চরম নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হয় যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকে। এছাড়া আরেকটি আশঙ্কা হলো রোবট বাহিনী মানুষের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে, যদিও বর্তমান প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করলে এ ধরনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠা নিকট ভবিষ্যতে দৃশ্যমান নয়।
পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এআই নিতে পারে কি না তা নিয়ে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নিরাপত্তা গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্বের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে। ফলে বাইরে থেকে কোনো এআইয়ের পক্ষে এসব মারণাস্ত্র সরাসরি হ্যাক বা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। তবে সবচেয়ে বড় ভয় হলো এআই যদি মানুষের সহায়তা ছাড়াই নিজেকে ক্রমাগত উন্নত করতে থাকে, তবে একপর্যায়ে এটি মানুষের বোধগম্যতার বাইরে চলে যাবে এবং ওপেনএআই-এর কিছু মডেলে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত আচরণের ঘটনাও ধরা পড়েছে।
অনেক এআই বিশেষজ্ঞের মতে, এআই মানবজাতি নিশ্চিহ্ন করবে এমন দাবিগুলোর সপক্ষে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক ও পরীক্ষাযোগ্য প্রমাণের অভাব রয়েছে। এআই নাও ইনস্টিটিউটের প্রধান বিজ্ঞানী হেইডি খলাফ বলেন, বৈজ্ঞানিক যুক্তির ক্ষেত্রে দাবি প্রমাণের সুযোগ থাকা জরুরি এবং পরীক্ষা ছাড়া এমন আশঙ্কা প্রকাশের বিষয়টি রূপকথা বা অন্ধ বিশ্বাসের রূপ নেয়। প্রযুক্তিবিদদের একাংশ মানব বিলুপ্তির পথ নিয়ে সতর্ক করলেও অন্য অংশ বিষয়টিকে কল্পবিজ্ঞান হিসেবে দেখছেন, তবে প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক তদারকি জোরদার করা জরুরি।